মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কমিউনিটি পুলিশিং

১। কমিউনিটি পুলিশিং কি?

উত্তরঃ- কোন ভৌগলিক এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে সাধারণ অর্থে কমিউনিটি বলে। বৃহৎ অর্থে কোন বিধিবদ্ধ সংস্থা, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানও কমিউনিটির অন্তর্ভুক্ত। কমিউনিটি পুলিশিং অর্থ কমিউনিটি কর্তৃক পরিচালিত পুলিশী ব্যবস্থা (Community driven policing system)। অন্য ভাষায় বলা যায়, কোন নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকায় অপরাধ দমন ও অপরাধ উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশ ও ঐ এলাকার জনগণের পারষ্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উপায় উদঘাটন ও বাস্তবায়নের পদ্ধতিই কমিউনিটি পুলিশিং। সরকারের বিধিবদ্ধ যে সংস্থাটি অপরাধ দমন, অপরাধ উদঘাটন, বিচারের জন্য অপরাধীদের গ্রেফতার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সর্বোপরি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেখাশুনার দায়িত্ব পালন করে তাকেই প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলে। পুলিশই মূলতঃ মৌলিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পুলিশের ইতিহাস সনাতনী ইতিহাস। যুগের বিবর্তনে পুলিশের সাংগঠনিক ও প্রায়োগিক ক্ষেত্রেও বিবর্তন এসেছে। বৃটেন ও আমেরিকার পুলিশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ঐ সকল দেশের পুলিশ অনেক বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান রূপে আবর্তিত হয়েছে। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট পিল আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থারও জনক। তিনি সনাতনী পুলিশিং ব্যবস্থাকে গণমুখী (Community oriented) পুলিশিং ব্যবস্থায় রূপান্তরের পক্ষে দর্শন দিয়েছেন। তার আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার মূল কথা হল, "পুলিশই জনতা এবং জনতাই পুলিশ" (The police are public and the public are police)। রবার্ট পিলের গণমুখী পুলিশিং এর মূলনীতি হতেই মূলতঃ কমিউনিটি পুলিশিং এর ধারণা আসে। কমিউনিটি পুলিশিং অর্থ জনগণকে পুলিশের কাজে সম্পৃক্ত করা। অর্থাৎ জনগণের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক সমস্যাদি যা থেকে অপরাধ সৃষ্টি হয় তা সমাধানের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে কমিউনিটি পুলিশিং এর সংজ্ঞা দিয়েছেন। সকল সংজ্ঞারই মূলকথা জনগণের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত জীবনের লক্ষ্যে কাজ করা। The Upper Midwest Community Policing Institute কমিউনিটি পুলিশিংকে নিম্নরূপে সংজ্ঞায়িত করেছেঃ- 

Community policing is an organization wide philosophy and management approach that promotes community, government and police partnerships, proactive, problem solving, community engagement to address the causes of crime, fear of crime and community issues. (অর্থাৎ কমিউনিটি পুলিশিং একটি সংগঠনভিত্তিক দর্শন ও ব্যবস্থাপনা যা জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনগণ, সরকার ও পুলিশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ দমন ও সমস্যার সমাধানকল্পে অপরাধের কারণ দূরীকরণ, অপরাধ ভীতি হ্রাস ও সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেয়)। কমিউনিটি পুলিশিং একটি গণমুখী (Community oriented), প্রতিরোধমূলক (Proactive) এবং সমস্যার সমাধানমূলক (Solution based) পুলিশী ব্যবস্থা ও দর্শন যা জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। 

### কমিউনিটি পুলিশিং এর বৈশিষ্ট্যঃ-

১। কমিউনিটি পুলিশিং প্রতিরোধমূলক ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক পুলিশী ব্যবস্থা।

২। ইহা পুলিশ ও জনগণের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করে।

৩। কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশ ও জনগণের সমন্বয়ে উভয়ের নিকট গ্রহণীয় পুলিশী কার্যক্রমের একটি দর্শন। 

৪। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থায় জনগণ এলাকার সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ পায়। 

৫। জনগণের নিকট পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চত করা। 

৬। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায়। 

৭। জনগণ পুলিশী কার্যক্রম ও পুলিশের সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে জানতে পারে।

৮। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমে এবং জনগণের মধ্যে পুলিশী ভীতি ও অপরাধ ভীতি হ্রাস পায় এবং জনগণ পুলিশকে সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়।

৯। পুলিশ জনগণকে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে তাদের অনেক সমস্যা তাদের দ্বারাই সমাধানের পথ বের করার জন্য অনুঘটক হিসাবে কাজ করে।

১০। কমিউনিটির সম্পদ (Community resource) কমিউনিটির উন্নয়নের জন্য ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

### কমিউনিটি পুলিশিং এর সুফলঃ-             

১। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ দমন ও এলাকার সমস্যা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

২। জনগণের সহায়তায় পুলিশ নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে পারে।

৩। জনগণের পুলিশের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতের আলোকে পুলিশী সেবা নিশ্চিত করা যায়।

৪। পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (Interaction) বৃদ্ধি পায় এবং জনগণ পুলিশী কাজের প্রক্রিয়া এবং পুলিশের সীমাবদ্ধতা জানতে পারে।

৫। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, (Mutual confidence), সমঝোতা (understanding) এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা (Mutual respect) বৃদ্ধি পায়।

৬। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পায়। জনগণ পুলিশকে আপন ভাবতে শিখে।

৭। জনগণের মধ্যে পুলিশ ভীতি ও অপরাধ ভীতি হ্রাস পায় এবং পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনগণ উদ্বুদ্ধ হয় ও সাহস পায়। মানুষের মধ্যে পুলিশকে এড়িয়ে চলার প্রবণতাও হ্রাস পায়।

৮। পুলিশই জনতা এবং জনতাই পুলিশ (The police are public and the public are police) এ শ্লোগান বাস্তবে রূপ নেয়।

৯। এলাকার অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসাবে একটি গণফোরাম তৈরী হওয়ায় অপরাধীরা নির্বিঘ্নে অপরাধ সংঘটনের সাহস পায় না। সমাজের অপরাধ হ্রাস পায়।

১০। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয় এবং জনগণের জীবন যাত্রার মান উন্নত হয়।

### কমিউনিটি পুলিশিং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ-

১। জনগণকে অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমাজের বহুবিধ সমস্যা সমাধানে সম্পৃক্ত করে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি কার্যকর ও টেকসই গণমুখী পুলিশী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

২। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে সমস্যা ও সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের পরিকল্পনা ও বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ নেয়া।

৩। অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে সহায়তা করার দর্শন ও সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং পুলিশের কাজে জনগণের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা।

৪। অপরাধ ও সামাজিক বিচার, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

৫। জনগণের মধ্যে নাগরিক অধিকার এবং কর্তৃব্য ও দায়িত্ববোধ জাগরণ করা।

৬। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা সৃষ্টি করে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস করা এবং একটি সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলা।

৭। পুলিশের কার্যপদ্ধতি এবং কর্তব্য পালনে পুলিশের সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে জনগণকে অনুধাবন করার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তার আলোকে পুলিশকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহায়তা করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা।

৮। অপরাধ দমন ও সামাজিক সমস্যাবলী সমাধানে জনগণকে ক্ষমতায়ন করা এবং জনকল্যাণে কমিউনিটির সম্পদের(Community resource) সদ্ব্যবহার ও জনগণের মেধাকে কাজে লাগানো। 

৯। জনগণের মধ্যে পুলিশী ভীতি ও অপরাধ ভীতি হ্রাস করে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করা এবং পুলিশকে আপদে-বিপদে তাদের আপন লোক বলে জনমনে বিশ্বাস জন্মানো।

১০। পুলিশের সনাতনী মানসিকতার পরিবর্তন এনে তাদের আচার-আচরণে ও কর্মকান্ডে গণমুখী ও আধুনিক পুলিশী ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটানো।

১১। পুলিশ ও জনগণের ঐকান্তিক ও যৌথ প্রচেষ্টায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে আইনের শাসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।

১২। পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং জনতাই পুলিশ এবং পুলিশই জনতা(The police are public and the public are police) নীতি সমাজে প্রতিষ্ঠা করা।  

### কমিউনিটি পুলিশিং এর ক্ষেত্র/কার্যক্রমঃ-

১। অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। সভা, সেমিনার, মতবিনিময়, র‌্যালী, লিফলেট, পোস্টার ও নানামুখী প্রচারণার মাধ্যমে অপরাধ বিরোধী জনমত ও গণসচেতনতা তৈরী করা যায়।

২। জনসম্মূখে বা প্রকাশ্যে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারে।

৩। অপরাধ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির করণীয় সম্বন্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে এবং থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করতে পারে।

৪। ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি, গরু চুরি ইত্যাদি অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের পরামর্শ ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

৫। অপরাধীদের উপস্থিতি, গোপন আস্তানা এবং অপরাধীদের অপরাধ কার্যাবলী বা অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি ইত্যাদি সম্পর্কে গোপনে পুলিশকে সংবাদ দিতে পারে।

৬। মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা ও অপব্যবহার রোধে মাদক বিরোধী প্রচারণা এবং অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে এলাকাকে মাদকমুক্ত করার কর্মসূচী নিতে পারে।

৭। চোরাচালান, খাদ্যে ভেজাল এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচী নেয়া যায়।

৮। কিশোর অপরাধ, বখাটে ছেলেদের উৎপাত, স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রী ও যুবতী মেয়েদের রাস্তাঘাটে উত্যক্ত করা বন্ধ করার জন্য বখাটেদের চিহ্নিত করে তাদের অভিভাবক ও সমাজের মুরব্বীদের দ্বারা চাপ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এ সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের কর্মসূচী গ্রহণ করা যায়।

৯। যৌন অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কর্মসূচী গ্রহণ এবং এইডস্, অনিয়ন্ত্রিত যৌন মেলামেশা ও জনসংখ্যা বিস্ফোরণের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারে।

১০। ছোট-খাট অধর্তব্য অপরাধ যেমন- পারিবারিক বিরোধ, দাম্পত্য কলহ, জমি-জমা বা আর্থিক লেন-দেন সংক্রান্তে অভিযোগ, বিভিন্ন সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা দলের মধ্যে বিবাদ ইত্যাদি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসা করার দায়িত্ব নেয়া যায় এবং মীমাংসার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করতে পারে।

১১। নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, শিশু শ্রম, নারী ও শিশু পাচার ও নারীর প্রতি বৈষম্য, বাল্য বিবাহ, যৌতুক ইত্যাদির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কর্মসূচী নেয়া যায়।

১২। ধর্মীয় গোঁড়ামী বা অপব্যাখ্যা, বিতর্কিত ফতোয়া, হিল্লা বিবাহ ইত্যাদির বিরুদ্ধে ইসলামী শিক্ষায় পন্ডিত ব্যক্তিদের সহায়তায় জনমত সৃষ্টি করা যায়।

১৩। সমাজের কোন সমস্যা যা জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জনগণের মধ্যে উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে সে সকল সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে পুলিশ ও জনগণের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সমাধানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ।

১৪। সকল প্রকার সামাজিক সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা যায়।

১৫। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দৈব দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এসে সাহায্য সহযোগিতা ও সেবা প্রদানের কর্মসূচী রাখা যায়।

১৬। এলাকার অপরাধ বৃদ্ধি পেলে কমিউনিটির উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করে নৈশকালীন এবং ক্ষেত্রমতে দিবা প্রহরার জন্য প্রহরী নিয়োগ করে পেট্রোল স্কীম চালু করা যায়। এ সকল প্রহরী বা পেট্রোল ম্যান কমিউনিটি পুলিশিং এর দৃশ্যমান সেবা প্রদান অঙ্গ(Organ) হিসাবে জনগণের সাথে কাজ করবে। তাদেরকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও ব্যবহার করা যায়।

১৭। বৃদ্ধ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সমাজ ও আত্মীয়-স্বজনের কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি, উদ্বুদ্ধকরণ এবং তাদের কল্যাণার্থে কর্মসূচী গ্রহণ।

১৮। কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশু অধিকার ও শিশুর প্রতি পিতা-মাতা, পরিবারের সদস্য ও সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে শিক্ষা কর্মসূচী গ্রহণ।

১৯। গণমাধ্যমের সাথে পুলিশের সহযোগিতা বৃদ্ধি, পারস্পারিক আস্থা, সমঝোতা ও পারস্পারিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মসূচী গ্রহণ।

২০। মামলার বাদী, স্বাক্ষী ও ভিকটিমকে বিশেষ আইনী সহায়তা, ভীতি দূর করে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি এবং মনস্তাত্বিক সহায়তা দানের লক্ষ্যে প্রকল্প নেয়া যেতে পারে।

২১। মিথ্যা মামলা এবং নিরীহ লোককে হয়রানী করার ক্ষতিকর দিক সম্বন্ধে জনগণকে সচেতন করা ও তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া।

২২। কোন দরিদ্র লোক মামলায় জড়িয়ে গেলে তাকে আইনী সহায়তা প্রদান।

২৩। বিবিধ কর্মসূচী যা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি জনস্বার্থ বলে বিবেচনা করবে।

৪ নং গুনাহার ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকরী কমিটিঃ-

ক্রমিক নং নাম পিতা/স্বামীর নাম ঠিকানা পদবী মোবাইল নং
      
      
      
      

৪ নং গুনাহার ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং উপদেষ্টা কমিটিঃ-

ক্রমিক নং নাম পিতা/স্বামীর নাম ঠিকানা পদবী মোবাইল নং